স্মৃতির আঙিনায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান: গুয়াখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এক অন্যরকম দিন
সময়টা ছিল ৫ আগস্ট ২০২৫। সকাল থেকেই গুয়াখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিবেশ ছিল উৎসবমুখর, তবে সেই উৎসবের মাঝে মিশে ছিল বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণকে সাজানো হয়েছিল জুলাই বিপ্লবের বীরত্বগাঁথা সম্বলিত প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন দিয়ে।
শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও আলোচনা সভা
দিনের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত ও গীতা পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপরই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত সকল বীর শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ও বিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ তাঁদের বক্তব্যে ৫ আগস্টের গুরুত্ব এবং তরুণ প্রজন্মের বীরত্বের কথা তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, "এই দিনটি কেবল একটি তারিখ নয়, এটি আমাদের স্বাধীনতা রক্ষার নতুন শপথ।" শিক্ষার্থীদের চোখমুখে তখন দেশ গড়ার এক নতুন প্রত্যয় পরিলক্ষিত হচ্ছিল।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জোয়ার
আলোচনা সভা শেষে শুরু হয় দ্বিতীয় পর্ব—সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় দেশাত্মবোধক গান, কবিতা আবৃত্তি এবং বিপ্লবী মঞ্চ নাটক পুরো প্রাঙ্গণকে মাতিয়ে তোলে।
বিপ্লবের গান: শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে "মুক্তির মন্দির সোপানতলে" এবং আবু সাঈদ-মুগ্ধদের উৎসর্গ করা সমবেত সংগীত উপস্থিত সবার মনে দেশপ্রেমের শিহরণ জাগিয়ে তোলে।
মঞ্চ নাটক: ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের অভিনীত একটি ক্ষুদ্র নাটিকার মাধ্যমে জুলাইয়ের সেই উত্তাল দিনগুলো ফুটিয়ে তোলা হয়, যা দেখে উপস্থিত অভিভাবকদের অনেকের চোখই সজল হয়ে ওঠে।
চিত্রপটে সেই দিনটি
অনুষ্ঠান চলাকালীন পুরো বিদ্যালয় চত্বর ছিল প্রাণবন্ত। একদিকে যেমন ছিল স্মৃতির বেদনাসিক্ত আবহ, অন্যদিকে ছিল নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নে বিভোর তরুণদের আনন্দ। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, গুয়াখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেবল পুঁথিগত শিক্ষায় নয়, দেশীয় চেতনা ও মূল্যবোধ চর্চায়ও অগ্রগামী।
শেষ কথা
৫ আগস্ট আমাদের মনে করিয়ে দেয় একতার শক্তি। গুয়াখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এই আয়োজন কেবল একটি অনুষ্ঠান ছিল না, বরং এটি ছিল এক নতুন প্রজন্মের জাগ্রত হওয়ার গল্প। শহীদদের আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না—এই অঙ্গীকার নিয়ে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।



Post a Comment